আন্তর্জাতিক
হ্যালোডেস্ক
হোয়াইট হাউজের অন্তরালে
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট – সমগ্র বিশ্বের ‘মোড়ল’ হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী দীর্ঘ ৪ বছর পর আগামী ৩ রা নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। তাই এ নির্বাচন শুধু মার্কিনিদের অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপটেই নয়, করোনাকালীন সমগ্র বিশ্বে এই নির্বাচনকে ঘিরে রয়েছে অন্যরকম তাৎপর্য, কৌতূহল। আসন্ন নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী যে-ই হোন না কেন, তার নির্বাচন পরবর্তী আবাসস্থল এবং একই সাথে কর্মস্থল, উভয়ই যেখান থেকে পরিচালিত হবে, সেগুলো ঘিরে সাধারণ মানুষের আগ্রহের কোথাও যেন কমতি নেই। কি রয়েছে এ সাদা বাড়িতে? কে থাকেন এখানে? এ পর্বের আয়োজনে দেখে নেয়া যাক সেসব।
বিশ্বের মোড়ল খ্যাত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির দাপ্তরিক বাসভবনের নাম ‘হোয়াইট হাউজ’। ওয়াশিংটন ডি.সি’র পেনসিলভানিয়া এভিনিউয়ে অবস্থিত এই বাসভবনটি ১৭৯২-১৮০০ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই ভবনটির স্থপতি ছিলেন আয়ারল্যান্ডের নাগরিক জেমস হোবান।
অভ্যন্তরীণ বাসভবন
৬ তলা বিশিষ্ট হোয়াইট হাউজে ১৩২ টি কক্ষ, ৩৫ টি স্নানাগার, ৪১২ টি দরজা, ১৪৭ টি জানালা, ২৮ টি ফায়ার প্লেইস, ৮ টি সিঁড়ি এবং ৩ টি লিফট আছে। এ বাড়িটি দেখভালের দায়িত্বে প্রায় ৩ হাজার পূর্ণকালীন কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। হোয়াইট হাউজ রঙ করতে ৫৭০ গ্যালন সাদা রঙ ব্যবহার করা হয়।
হোয়াইট হাউজের বাসিন্দা
যুক্তরাষ্ট্রের জাতির জনক ও প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন কখনোই হোয়াইট হাউজে থাকার সুযোগ পাননি। অথচ ১৭৯১ সালে তিনিই হোয়াইট হাউজের মূল নকশা অনুমোদন করেন। রাষ্ট্রপতি জন্য অ্যাডামস এবং তাঁর স্ত্রী আ্যবিগাইল, হোয়াইট হাউজের প্রথম অধিবাসী ছিলেন। হোয়াইট হাউজ হলো একটি জাতীয় প্রতীক। আমেরিকান স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান দ্বারা নির্মিত তালিকায় এটি দেশের সেরা স্থাপত্যগুলোর মধ্যে ২য় স্থান দখল করে আছে। রাষ্ট্রপতি ফ্রাঙ্কলিন ডেলানো রুজভেল্ট বলেছিলেন যে, হোয়াইট হাউজ হলো, “সমস্ত আমেরিকান মানুষের মালিকানাধীন”। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা এবং তৎকালীন ফ্লার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা একে “জনসাধারণের গৃহ” বলে অভিহিত করেছেন।
আমেরিকার প্রথম রাষ্ট্রপতি জর্জ ওয়াশিংটন, ১৭৯১ খ্রিষ্টাব্দে, বতর্মান হোয়াইট হাউজের জন্য এ জায়গাটি নির্বাচন করেছিলেন। ১৭৯২ খ্রিষ্টাব্দে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। প্রেসিডেন্ট হওয়ায় এস ট্রাম্প হোয়াইট হাউজের নাম দিয়েছিলেন ‘ঝলমলে বন্দীশালা’। প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান এ ভবনকে ‘আট তারকা’ হোটেলের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। হোয়াইট হাউজ নির্মাণকাজে সে সময় ২ লক্ষ ৩২ হাজার ৩৭২ মার্কিন ডলার ব্যায় করা হয়েছিল।
বিশ্ববিখ্যাত এ ‘সাদা বাড়ি’টি দু’বার আগুন থেকে রেহাই পেয়েছে। ১৮১৪ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশরা হোয়াইট হাউজে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। আগুনে ভবনের অভ্যন্তরের অংশ ও ছাদ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়।
মজার তথ্য
হোয়াইট হাউজের প্রধান বাসিন্দা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও তার পরিবার। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, তারা এখানে বিনামুল্যে খাবার পান না। তাদের খাবারের বিল মাস শেষে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি, টুথপেস্ট কেনা, কাপড় ইস্ত্রি করা ইত্যাদির খরচও নিজেদের বহন করতে হয়।
ভৌতিক গল্প
হোয়াইট হাউজ নিয়ে কিছু ভৌতিক কাহিনী প্রচলিত আছে। বলা হয়, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল একবার হোয়াইট হাউজের লিঙ্কন বেডরুমে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কনের নগ্ন ভূত দেখতে পেয়েছিলেন। পর দিন তিনি দ্বিতীয় বার ওই রুমে থাকতে অস্বীকার করেন। হোয়াইট হাউজের কর্মীদের বদৌলতে এ গল্পের আরও অনেক শাখা উপশাখা শুনতে পাওয়া যায়।
সফরের সময়সীমা
হোয়াইট হাউজ সফরের নির্ধারিত সময়সীমা হলো, মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৭:৩০ – সকাল ১১:০০ টা, শুক্রবার সকাল ৭:৩০ – দুপুর ২:০০ টা এবং শনিবার সকাল ৭:৩০ – দুপুর ১:০০ টা পর্যন্ত।

Add Comment